ঢাকায় গুগলের ডেভফেস্ট ২০১৫ অনুষ্ঠিত

ঢাকায় গুগলের ডেভফেস্ট ২০১৫ অনুষ্ঠিত

আজ শুক্রবার ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গুগল ডেভেলপার্স ফেস্টিভাল বা ডেভফেস্ট ২০১৫। গুগলের পৃষ্ঠপোষকতায় যৌথভাবে ডেভফেস্টের আয়োজন করেছে গুগল ডেভেলপার্স গ্রুপ (জিডিজি) বাংলা ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। ধানমন্ডির সোবহানবাগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে ফেস্টিভাল শুরু হয় সকাল ৯-৩০ মিনিটে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খানের সভাপতিত্বে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব, বাংলা কি বোর্ড বিজয় সফটওয়্যারের নির্মাতা ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ এম. ইসলাম, গুগলের কান্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম, প্রথম আলোর উপ ফিচার প্রধান পল্লব মোহাইমেন, ডেভফেস্টের আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসাইন, বি ল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শফিউল আলমসহ বিশিষ্টজনেরা। অনুূষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবসে আয়োজিত “ বাংলার জন্য চার লাখ” শিরোনামে গুগলে শব্দ সংযোজন প্রতিযোগীতায় বিজয়ী ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশণাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সালমান আবিরের হাতে পুরস্কার তুলে দেয় হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা জব্বার বলেন, গুগলে বাংলাভাষায় পর্যাপ্ত ডাটা নেই, তাই তা তৈরীতে তরুন প্রজন্মকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। পর্যাপ্ত ডাটা তৈরী করতে পারলে গুগল বাংলাভাষাকে প্রচন্ডভাবে গ্রহণ করবে। সংখ্যার বিচারে বেশী সংখ্যক এপস্ তেরী না করে গুনগত ও মানসম্পন্ন কার্যকর এপস্ তৈরীতে এগিয়ে আসার জন্য তিনি তরুন ডেভেলাপারদের আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাভাষা নিয়ে কাজ করার যে পরিমান অপার সম্ভাবনা রয়েছে তা অন্য কোন খাতে নেই। তিনি আরো বলেন, উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাভাষায় উল্লেখযোগ্য কনটেন্ট নেই , তাই তরুন ডেভেলাপারদের এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান বলেন, পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগুতে পারবে না। তিনি ডেভেলাপারদের ক্যারিয়ার গঠনে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উপর গভীর মনোযোগ ও ধৈর্য্য ধারনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নিয়মিত এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ফলে নতুন প্রোডাক্ট বের হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডেভফেস্টে দুটি প্রধান সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা কম্পিউটিং শিরনামে একটি সেশন শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে। এতে আলোচনা করেন আনন্দ মাল্টিমিডিয়ার মোস্তাফা জব্বার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভগীয় প্রধান ও ডেভফেস্টের আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসাইন, গুগলের কান্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট খান মুহাম্মদ আনোয়ারুস সালাম, এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আশরাফ আবীর। বিকেল ৪টায় শুরু হয় বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যারা কাজ করছেন সেসব তরুন ডেডেভলাপারদের নিয়ে অনুষ্ঠান ‘আমরাই বাংলাদেশ’। এতে আলোচনা করেন সফল তারুণ্যের প্রতিনিধিরা। এই সেশেনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান। আলোচনা করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারন সম্পাদক মুনির হাসান, অন্যরকম গ্র“পের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, গ্রামীনফোনের হেড অব ইন্টারনাল কমিউনিকেশন খায়রুল বাশার ও গিকি সোস্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা।
দিনভর ডেভফেস্টে মূল আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বেশ কিছু টেকনিক্যাল সেশন। কোডল্যাবে আয়োজন করা হয় ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন, আ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপার প্রাথমিক ধারনা, অ্যাপ ডিজাইন, অ্যাপ হোস্টিং ও প্রোমোশন ইদ্যাদি। এছাড়া হবে ডিজাইন স্প্রিন্ট, অ্যান্ডয়েড চালিত রোবট প্রদর্শনী, গুগল ম্যাপ ও গুগল ট্রান্সলেশনে অবদান ইত্যদি বিষয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংগীত পরিবেশনা করেন মেনার। অনুষ্ঠানে সহযোগীতা করে ওনলাইন মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সার, রকমারী ডটকম, এমসিসি লিমিটেড ও বিডিওএসএন।

NO COMMENTS

Leave a Reply