মাভাবিপ্রবি’র উপাচার্য ড. মো: আলাউদ্দিন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নতুন সভাপতি

মাভাবিপ্রবি’র উপাচার্য ড. মো: আলাউদ্দিন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নতুন সভাপতি

উপাচার্য্ ড. মো: আলাউদ্দিন
উপাচার্য্ ড. মো: আলাউদ্দিন

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আলাউদ্দিন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। গত বুধবার পরিষদের সভাপতি ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির ২৪৫-তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ আইন অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে এ মনোনয়ন দেয়া হয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আলাউদ্দিন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি মনোনীত হওয়ায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রফেসর ড. মো: আলাউদ্দিন ২০১৩ সালের ৪ মে থেকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্বের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং বর্তমানে বিজনেস স্টাডিজ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়ন বিষয়ে বিএসসি (অনার্স), ১৯৭৭ সালে এমএসসি এবং ১৯৯০ সালে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ছাত্র জীবনে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্র সংসদের প্রথম নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। ১৯৯৭ সালে তিনি প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আট বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১০ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট, রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তিনবার সদস্য এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের তিনবার সদস্য ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর থাকাকালীন সময়ে তৎকালীন ভাইস-চ্যান্সেলরের পরামর্শক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেয়ার পর বিশ^দ্যিালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারেও মুক্তিয্দ্ধু কর্ণার স্থাপন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর অনেক সংখ্যক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিশ^প্রেক্ষিত ও বাংলাদেশ, বিজ্ঞান কী ও কেন, রসায়নের রহস্য ও পরীক্ষন, পদার্থবিজ্ঞানের মডেল ও পরীক্ষনসহ বিভিন্ন পুস্তক সংকলন ও রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, স্ইুজারল্যান্ড, জার্মান, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশে^ও বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন।

NO COMMENTS

Leave a Reply