শেকৃবিতে চাষ হচ্ছে নতুন সবজি টমাটিলো

শেকৃবিতে চাষ হচ্ছে নতুন সবজি টমাটিলো

tomatilo
গবেষনা মাঠে অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা

বাংলাদেশে প্রথম ক্যান্সার প্রতিরোধী ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নতুন সবজি টমাটিলো উৎপাদন হচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে। যা বাংলাদেশের আবহাওয়ার চাষ হওয়া প্রথম টমাটিলো ।

টমাটিলো
নতুন সবজি টমাটিলো

এ অসাধ্যকে সম্ভব করেছেন  কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবার তত্ত্বাবধানে পি এইচ ডি ও এম এস এর শিক্ষার্থীদের একটি দল। টমাটিলো সালাদ, সস ও তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। কাচা খেতে শুস্বাদু ও মিষ্টি কম হওয়ায় ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই ভাল একটি সবজী। হেক্টর প্রতি এর ফলন ৫০ টন, যা দেশীয় টমোটোর চেয়ে দ্বিগুন। তার এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর মো. শাদাত উল্লা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এই ব্যাপারে অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা বলেন, টমাটিলো কথাটি “লিটল টমেটো” থেকে উদ্ভব হয়েছে এবং এর আদি অবস্থান মেক্সিকো। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইসালিস ইক্সকারপা। টমাটিলো গাছের ফল বর্ধিত বৃত্তি দ্বারা আবৃত থাকে। অনেকটা আমাদের দেশের “ফসকা বেগুন” আগাছার মতো। বৃত্তির দ্বারা আবৃত ভিতরের ফলটি পুরোপুরি টমেটোর মত। এদের রং সবুজ, হলুদ ও বেগুনী হয়ে থাকে। টমাটিলো গাছের পাতা অনেটা মরিচ গাছের পাতার মতো। ফলের ভেতরটা মাংসল ও বীজ গুলো টমেটোর চেয়ে ছোট। ফলের ভিতরটা ভরাট হওয়ায় এর ওজন টমেটোর চেয়ে বেশী হয়। টমাটিলো কাচা খেতে শুস্বাদু ও মিষ্টি কম হওয়ায় ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল একটি সব্জী। এবছরই প্রথমবারের মত বাংলাদেশে টমাটিলো উৎপাদন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে। তিনি আরও জানান, এর উৎপাদন হেক্টর প্রতি পঞ্চাশ টন যা দেশীয় টমোটো উৎপাদনের তুলনায় দিগুন। এদের পুষ্টি গুনাগুন গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ফসলটি ক্যান্সার প্রতিরোধী ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। এতে উচ্চমাত্রার পেকটিন আছে যা দ্রবীভূত ডাইয়েটারী ফাইবার হিসাবে কাজ করে এবং রক্তে কোলেষ্টেরল এর মাত্রা কমায়। পেকটিন পরিপাক নালীতে গ্লুকোজ বিশোষন কমিয়ে দেয় এবং কোষ্টকাঠিন্য ও ডাইরিয়া নিরাময় করে।  টমাটিলো বৃত্তিতে মোড়ানো থাকায় রোগ বালাই ও পোকা মাকড় বিশেষ করে ফ্রুট বোরার এর আক্রমন অনেক কম হয়। পাখি বৃত্তি ভেদ করে ফল খেতে পারে না। এতে ফসলের ঘাটতি কমে যায় এবং ফলন বেড়ে যায়। আমাদের দেশীয় টমেটোর সাথে এর ক্রস করা সম্ভব হলে অথবা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় জ্বীন স্থানান্তরের মাধ্যমে টমেটোর পুষ্টি ও ফলনের ঘাটতি পুরন করা সম্ভব হবে। এই লক্ষকে সামনে নিয়েই এই বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
পরিবর্তিত আবহাওয়ায় খরা ও লবনাক্ত সহিষ্ণু টমেটো ও ক্যাপসিকাম উৎপাদনের লক্ষে উক্ত দলটি কাজ করছে। অন্যদিকে দেশী ও বিদেশী  বিভিন্ন ধরনের টমেটোর জাত ও লাইন এর জেনেটিক বিভিন্নতা নির্দিষ্ট করে পুষ্টি গুনে ভাল এবং আকর্ষনীয় রং ও আকৃতির বিদেশী জেনোটাইপগুলো  এদেশে প্রচলিত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।

NO COMMENTS

Leave a Reply